গভীর মন্দা কাটিয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনায় গত বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ২১১ শতাংশে পৌঁছে। গভীর এ অর্থনৈতিক সংকটে অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

আর্জেন্টিনায় গত বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ২১১ শতাংশে পৌঁছে। গভীর এ অর্থনৈতিক সংকটে অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। এক বছরের ব্যবধানে গভীর মন্দা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি। খবর সিএনএন।

আর্জেন্টিনার জাতীয় পরিসংখ্যান ও আদমশুমারি ইনস্টিটিউটের (আইএনডিইসি) তথ্যমতে, জুলাই-সেপ্টেম্বরে আগের তিন মাসের তুলনায় জিডিপি বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিতে মূলত অবদান রেখেছে কৃষি ও খনি খাত। এ সময়ে ভোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে। যদিও উৎপাদন ও নির্মাণ খাত এখনো সংকট থেকে বের হতে পারেনি।

গত বছর নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নতি সাধন করেছেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ফলে আর্জেন্টিনার মন্দা থেকে উত্তরণের ঘটনাকে তার বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও সংকটময় অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিলেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সরকারি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি কমিয়েছেন এবং দেশের আর্থিক অবস্থার মেরামত করতে সহায়তা করেছেন। তবে এ পদক্ষেপগুলোর কারণে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা কুড়িয়েছেন অর্থনীতিবিদ হাভিয়ের মিলেই।

আর্জেন্টিনার প্রধান পুঁজিবাজার সূচক গত সোমবার ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি বছর সূচক বেড়েছে ১৭৪ শতাংশ। কারণ বিনিয়োগকারীরা মিলেইয়ের সাহসী সংস্কারকে সমর্থন করেছেন।

গত ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ২১১ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় গভীর সংকটে পড়েছিল আর্জেন্টাইন অর্থনীতি। বিগত সরকারগুলো ব্যয় মেটাতে নোট ছাপানোর কারণে এ দশার সৃষ্টি হয়েছিল। দেশটির সবচেয়ে বড় ঋণদাতা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, মিলেই ‘প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল’ অর্জন করেছেন।

২০১৮ সালে আর্জেন্টিনাকে সবচেয়ে বড় বেইলআউট (আর্থিক সহায়তা) দিয়েছিল আইএমএফ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত বছর ১ দশমিক ৬ শতাংশ সংকোচনের পর এ বছর দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হবে। আগামী বছর ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে চলতি বছর ও গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আর্জেন্টিনায় প্রকৃত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মিলেই সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে এবং বিনিময় হারকে ডলারের বিপরীতে অবাধে চলতে দিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নত জীবনযাত্রার জন্য আরো বেশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ অপরিহার্য। এটি একই সঙ্গে মিলেইয়ের পক্ষে জনসমর্থন বজায় রাখা ও আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও